• ১৯ জুলাই ২০২৪ | ৩ শ্রাবণ ১৪৩১

Shongbad Protikshon || সংবাদ প্রতিক্ষণ

চট্টগ্রামে ফ্লাইওভারের গার্ডার ধস, ৮ জনের কারাদণ্ড

প্রকাশিত: ১৫:৫১, ১০ জুলাই ২০২৪

চট্টগ্রামে ফ্লাইওভারের গার্ডার ধস, ৮ জনের কারাদণ্ড

চট্টগ্রামে ফ্লাইওভারের গার্ডার ধস, ৮ জনের কারাদণ্ড

চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁও থানার বহদ্দারহাটে নির্মাণাধীন ফ্লাইওভারের গার্ডার ধসে ১৩ জন নিহতের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় আট আসামির সাত বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাদের প্রত্যেককে ৩ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরো ছয়মাসের কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়। এক যুগ পর রায় হলো আলোচিত এ মামলার।
বুধবার দুপুরে চট্টগ্রামের চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ শরীফুল আলম ভূঁঞার আদালত এ রায় দেন। এর আগে, গত ২৫ জুন রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায়ের দিন ধার্য করেন আদালত।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- প্রকল্প ব্যবস্থাপক গিয়াস উদ্দিন, মনজুরুল ইসলাম, প্রকৌশলী আবদুল জলিল, আমিনুর রহমান, আবদুল হাই, মোশাররফ হোসেন, মান নিয়ন্ত্রণ প্রকৌশলী শাহজাহান আলী ও রফিকুল ইসলাম। তারা সবাই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মীর আখতার অ্যান্ড পারিসা ট্রেড সিস্টেমস-এর (জেভি) তৎকালীন কর্মী।

আদালতের বেঞ্চ সহকারী ওমর ফুয়াদ বলেন, দুই তদন্ত কমিটি ও ২২ জনের সাক্ষ্যে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আট আসামিকে পৃথক ধারায় মোট সাত বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এরমধ্যে একটি ধারায় প্রত্যেককে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও তিন লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। অন্য একটি ধারায় প্রত্যেককে দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে সাজা পরোয়ানা মূলে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।  

আসামিপক্ষের আইনজীবী এস ইউ নুরুল ইসলাম বলেন, রায়ে আমরা সন্তুষ্ট নই। রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে।

রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের পিপি অনুপম চক্রবর্তী বলেন, এই দুর্ঘটনার দায় প্রতিষ্ঠান এড়াতে পারে না। রায় ঘোষণার সময় আদালত এই মেসেজটাই দিয়েছেন, আসামিরা যেখানেই দায়িত্ব পালন করুক না কেন এ দায় তাদের ওপরও বর্তায়।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০১২ সালের ২৪ নভেম্বর ফ্লাইওভারের ১২ ও ১৩ নম্বর গার্ডার ধসে ১৩ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। ঐ ঘটনায় কর্তব্যে অবহেলার অভিযোগ এনে প্রকল্প পরিচালক চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) নির্বাহী প্রকৌশলীসহ ২৫ জনের বিরুদ্ধে ২৬ নভেম্বর চান্দগাঁও থানায় মামলা করেন থানার তৎকালীন এসআই আবুল কালাম আজাদ। মামলাটির তদন্ত শেষে ২০১৩ সালের ২৪ অক্টোবর আদালতে আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। পরে ২০১৪ সালের ১৮ জুন তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত।

আদালতে দাখিল করা অভিযোগপত্র সিডিএর তিন কর্মকর্তা, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তিন জন এবং পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনার পরিচালক এম এ মতিনসহ ১৮ জনের নাম বাদ দেওয়া হয়। দণ্ডিত রফিকুল ইসলামের নাম এজাহারভুক্ত ছিল না। তদন্ত শেষে অভিযোগপত্র তার নাম যুক্ত করে পুলিশ।