• ১৯ জুলাই ২০২৪ | ৩ শ্রাবণ ১৪৩১

Shongbad Protikshon || সংবাদ প্রতিক্ষণ

রাফিত হত্যা মামলায় বন্ধু রাজিনের দায় স্বীকার

প্রকাশিত: ১৪:২৬, ৯ জুলাই ২০২৪

রাফিত হত্যা মামলায় বন্ধু রাজিনের দায় স্বীকার

রাফিত হত্যা মামলায় বন্ধু রাজিনের দায় স্বীকার

ক্লাসরুমে দ্বন্দ্বের জেরে ঢাকা কমার্স কলেজের শিক্ষার্থী জুবায়ের হাসান রাফিতকে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় তার বন্ধু রাজিন ইকবাল চৌধুরী দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।
সোমবার রাজিনকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর তিনি দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিতে সম্মত হওয়ায় তা রেকর্ড করার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহ আলী থানার উপ-পরিদর্শক আমিনুল ইসলাম। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলী হায়দার তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। এরপর তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

গতকাল রোববার (৭ জুলাই) হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর এলাকা থেকে রাজিনকে গ্রেফতার করে র‌্যাব।

জুবায়ের হাসান রাফিত ঢাকা কমার্স কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি ক্লাস ক্যাপ্টেন হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। গত জুন মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে রাজিনের কাছে কলেজের এক শিক্ষক একটি দাবা বোর্ড পান। পরে সেটি বাজেয়াপ্ত করা হয়। বোর্ডটি ফিরে পেতে কলেজের উপদেষ্টা বরাবর আবেদন করেন রাজিন।

ঐ আবেদনে নিয়মিত শিক্ষার্থী উল্লেখ করাকে কেন্দ্র করে জুবায়ের ও রাজিনের মধ্যে বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে ধস্তাধস্তি হয়। পরে কলেজ শিক্ষকদের মধ্যস্থতায় বিষয়টির মীমাংসা হয় এবং অভিভাবকদের অবহিত ও সতর্ক করা হয়। এ ঘটনার জেরে রাজিনের মনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এরপরই জুবায়েরকে হত্যার পরিকল্পনা করতে থাকেন রাজিন।

পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী, গত শনিবার (৬ জুলাই) দুপুরে জুবায়েরকে রাজধানীর মিরপুরে কমার্স কলেজের পার্শ্ববর্তী নিজ ভাড়া বাসায় কৌশলে ডেকে নেন রাজিন। জুবায়ের সেখানে গেলে তাদের মধ্যে ফের বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে রাজিন জুবায়েরকে ধারালো বটি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেন। হত্যার বিষয়টি রাজিন তার বাবাকে জানালে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং স্থানীয় লোকজন বিষয়টি জানার আগেই রাজিনকে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করেন।

এক পর্যায়ে মরদেহ সম্পর্কে স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ জানতে পারলে রাজিনের বাবাও কৌশলে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে উভয়েই নির্দিষ্ট স্থানে মিলিত হন। রাজিনের বাবা মাইক্রোবাসে করে ছেলেকে নিয়ে হবিগঞ্জে পালিয়ে যান। সেখানে নিকটাত্মীয়ের বাড়িতে ছেলেকে রেখে তিনি নিজে অন্যত্র আত্মগোপন করেন।

এ ঘটনায় রাজধানীর শাহ আলী থানায় একটি হত্যা মামলা হয়।