• ১৯ জুলাই ২০২৪ | ৩ শ্রাবণ ১৪৩১

Shongbad Protikshon || সংবাদ প্রতিক্ষণ
বিদায়ী অর্থবছর যে কারণে মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধি জন্য দায়ী

বিদায়ী অর্থবছর যে কারণে মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধি জন্য দায়ী

গত অর্থবছরজুড়ে নানা উদ্যোগ নিলেও নিয়ন্ত্রণে আসেনি দেশের মুদ্রাস্ফীতি। উল্টো নিত্যপ্রয়োজনীয় সব পণ্যের দাম বেড়ে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়িয়েছে বহু গুণ। সম্প্রতি বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে টাকার উল্লেখযোগ্য অবমূল্যায়নের কারণে দেশীয় অর্থনীতি লাভবান হতে পারেনি, যা পরবর্তীতে আমদানি মূল্য ও মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধির জন্য দায়ী। গত অর্থবছরের তাদের সর্বশেষ মুদ্রানীতি পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে যে কাঁচামাল আমদানি শুল্ক, গ্যাস, জ্বালানি তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী এবং বাজারে প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশের অভাবের কারণে উচ্চ মূল্যস্ফীতি হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা মনে করছেন, আগামী মুদ্রানীতিতে অনুৎপাদনশীল খাতে বা বিলাসী খাতে আমদানি আরো নিয়ন্ত্রণ করা হবে। এছাড়া এসব খাতে ঋণের সুদহারও কিছুটা বাড়ানো হবে। এতে টাকার প্রবাহ কমে মূল্যস্ফীতি কমবে। বাংলাদেশ ব্যাংক চলতি মাসে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথমার্ধ অর্থাৎ জুলাই-ডিসেম্বর মেয়াদের জন্য নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করবেন। অর্থবছরের প্রথমার্ধের জন্য ঘোষিত সংকুলানমুখী মুদ্রানীতির ধারাবাহিকতা দ্বিতীয়ার্ধেও থাকবে। অথ্যাৎ মুদ্রাস্ফীতি ঠেকাতে আসন্ন মুদ্রানীতিতে ব্যাংকটি আবারো কঠোর অবস্থান অব্যাহত রাখার ইঙ্গিত দিয়েছে। এর আগে গত ১৭ জানুয়ারি ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরের দ্বিতীয় ষান্মাসিকের (জানুয়ারি-জুন) মুদ্রানীতি ঘোষণাকালে নীতি সুদহার ২৫ শতাংশীয় পয়েন্ট বাড়িয়ে ৮ শতাংশ করা হয়েছিল। নতুন সিদ্ধান্ত মতে নীতি সুদহার ৭.৭৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৮ শতাংশ করা হয়। এর ফলে টাকার সরবরাহ কমানোর কথা ছিল। কিছুটা নগদ টাকা কমলেও মূল্যস্ফীতি না কমে উল্টো বেড়েছে। এ কারণে মুদ্রাস্ফীতি মাঝারি মেয়াদে টেকসইভাবে ৭. ৫ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছি আনতে মুদ্রানীতিকে দীর্ঘ সময়ের জন্য কঠোর অবস্থানে থাকতে হবে। অর্থনীতিবিদদের মতে, বর্তমানে বিশ্বে চলামান সংঘাত বিশেষ করে রাশিয়া-ইউক্রেন দ্বন্দ্ব এবং মধ্যপ্রাচ্যে অশান্তি বাংলাদেশের অর্থনীতিকে প্রভাবিত করছে। যুদ্ধ যদি দীর্ঘায়িত হয়, তাহলে দেশের অর্থনীতিতেও এর প্রভাব থেকে যাবে। বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা এবং বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করার জন্য ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো সম্মিলিতভাবে একটি রোড ম্যাপ প্রস্তুত করছে। আশা করা হচ্ছে এই পদক্ষেপ দেশরে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, টেকসই প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি এবং আর্থিক স্বাস্থ্যের উন্নতিতে অবদান রাখবে। সূত্র: ফাইবারটুফ্যাশন

অর্থনীতি বিভাগের সব খবর

সর্বশেষ