• ১৯ জুলাই ২০২৪ | ৩ শ্রাবণ ১৪৩১

আদালতের রায় আসা পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের ধৈর্য ধরার আহ্বান

আদালতের রায় আসা পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের ধৈর্য ধরার আহ্বান

কোটা সংস্কার নিয়ে সবোর্চ্চ আদালতের রায় আসা পর্যন্ত আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বুধবার (১৭ জুলাই) সন্ধা ৭টায় জাতীর উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ আহ্বান জানান। শেখ হাসিনা বলেন, ‘আজ পবিত্র আশুরা, কারাবালা দিবস। এ দিন মোহাম্মদ (স.) এর দৌহিত্র ও পরিবারের সদস্যরা নিহত হয়েছিলেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বাংলার মাটিতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বপরিবারে হত্যা করে আরেক কারাবালা সৃষ্টি হয়েছিল। যারা মাহাদাত বরণ করেছেন আমি তাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাচ্ছি।’ তিনি বলেন, ‘প্রিয় দেশবাসী আজকে অত্যান্ত বেদনা ভারাক্রান্ত মন নিয়ে আপনাদের সামনে উপস্থিত হয়েছি। জনগণের উন্নয়নের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। বাংলাদেশের মানুষ যখন শান্তিতে থাকা শুরু করে তখনই এমন এমন ঘটনা ঘটে, যা অত্যান্ত বেদনা দায়ক।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০১৮ সালে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে কোটা প্রথা বাদ দিয়ে একটি পরিপত্র জাড়ি করে। পরবর্তীতে মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষে উচ্চ আদালত সরকারের পরিপত্র বাতিল করে দেয়। সরকারের পক্ষ থেকে পরিপত্র রাখার জন্য সর্বোচ্চ আদালতে আবেদন করা হয়। মহামান্য আদালত শুনানির দিন ধার্য করে। এ সময় ছাত্ররা আবারো কোটা আন্দোলন শুরু করে। এই আন্দোলনের শুরু থেকে সরকার যথেষ্ট ধর্য ও সহনশিলতা পর্দশন করেছে। আন্দোলনকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চত করারর ক্ষেত্রে পুলিশ সহযোগিতা করে।’ তিনি আরো বলেন, ‘কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো কিছু মহল এই আন্দোলনে সুযোগটা নিয়ে অনাকাঙ্খিত উচ্চাভিলাষ চরিতার্থ করার সুযোগ নিয়ে সন্ত্রসী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে ঘিরে যে ঘটনা ঘটেছে তা খুবই বেদনা দায়ক ও দুঃখজনক। অহেতুক কতগুলো মূল্যবান জীবন চলে গেল। আপনজন হারানো যে কত কষ্টের তা আমার থেকে কেউ বেশি জানে? যারা মৃত্যুবরণ করেছে তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। আমি প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানাই। যেসকল ঘটনা ঘটেছে তা কখনো কাম্য ছিল না।’ সরকারপ্রধান বলেন, ‘চট্টগ্রামে সন্ত্রাসীরা বহুতল ভবনের ছাদ থেকে ছাত্রদের হত্যার উদ্দেশ্যে নির্মমভাবে নিচে ছুঁড়ে ফেলে, অনেক ছাত্রের হাত পায়ের রগ কেটে দেয়। তাদের ওপর লাঠিপেটা এবং ধারালো অস্ত্র দ্বারা আঘাত করে, একজন মৃত্যুবরণ করেছে, অনেকে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। ঢাকা, রংপুর ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যের বাসভবন ও ছাত্রছাত্রীদের আবাসিক হলে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর করা হয়। সাধারণ পথচারীদেরও আক্রমণ করা হয়। মেয়েদের হলে ছাত্রীদের ওপর আক্রমণ করা হয়েছে এবং তাদের লাঞ্ছিত করা হয়েছে।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি যারা কোটা সংস্কার আন্দোলনে জড়িত তাদের সাথে এসব সন্ত্রাসীর কোনও সম্পর্ক নেই। বরং সন্ত্রাসীরা এদের মধ্যে ঢুকে সংঘাত ও নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে। এই ধরনের ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের চিহ্নিত করে উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। যারা হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে তাদের পরিবারের জন্য জীবন-জীবিকা নির্বাহের ক্ষেত্রে যে সহযোগিতা দরকার তা আমি করবো।’ তিনি বলেন, ‘আমি দ্ব্যর্থহীনভাবে ঘোষণা করছি, যারা হত্যাকাণ্ড, লুটপাট ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়েছে, এরা যে-ই হোক না কেন, তারা যেন উপযুক্ত শাস্তি পায় সে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমি আরও ঘোষণা করছি, হত্যাকাণ্ডসহ যেসব অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটেছে, সুষ্ঠু বিচার ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে সে সকল বিষয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্ত করা হবে। কাদের উসকানিতে সংঘর্ষের সূত্রপাত হলো, কারা কোনও উদ্দেশ্যে দেশকে একটি অরাজক পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিল, তা তদন্ত করে বের করা হবে। আমি আন্দোলনরত কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। এই সন্ত্রাসীরা যেকোনও সময়ে সংঘাতের পরিবেশ তৈরি করে তাদের ক্ষতিসাধন করতে পারে। তাই শিক্ষার্থীদের পিতা-মাতা, অভিভাবক এবং শিক্ষকদের প্রতি আমার আবেদন থাকবে, তারা যেন তাদের সন্তানদের নিরাপত্তার বিষয়ে সজাগ থাকেন। একই সঙ্গে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিশেষভাবে নজর রাখেন।’ তিনি আরো বলেন,‘সরকার হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আদালতে আপিল করেছে। আপিল আদালতে শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। আদালত শিক্ষার্থীদের কোনও বক্তব্য থাকলে তা শোনার সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছে। এই আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের সুযোগ রয়েছে। এই আইন প্রক্রিয়া সমাধানের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও রাস্তায় আন্দোলনে নেমে দুষ্কৃতিকারীদের সংঘাতের সুযোগ করে দেবেন না। সর্বোচ্চ আদালতের রায় আসা পর্যন্ত ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করার জন্য আমি সকলকে বিশেষভাবে অনুরোধ জানাচ্ছি। আমার বিশ্বাস আমাদের ছাত্র সমাজ উচ্চ আদালত থেকে ন্যায়বিচারই পাবে, তাদের হতাশ হবে না। ইনশাআল্লাহ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় আামাদের প্রিয় মাতৃভূমিকে সকলের সহযোগিতায় স্মার্ট বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলবে। আমি আবারও এই অনাকাক্সিক্ষত ঘটনায় যারা নিহত হয়েছে তাদের জন্য গভীর দুঃখ প্রকাশ করছি এবং পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানাচ্ছি।’

আলোচনার পথ খোলা রেখে আন্দোলনকারীদের কর্মসূচি ঘোষণা

আলোচনার পথ খোলা রেখে আন্দোলনকারীদের কর্মসূচি ঘোষণা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে শিক্ষার্থীদের আদালতের রায় পর্যন্ত ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সাথে তিনি ১৬ জুলাই যারা নাশকতা-তাণ্ডব করেছে, সেই সমস্ত ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্তের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন। গতকাল বুধবার কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ঘোষণায় আজ সারাদেশে চলছে কমপ্লিট শাটডাউন। কোটা সংস্কার আন্দোলন নিয়ে সরকার এবং আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের অনড় অবস্থান লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তবে শিক্ষার্থীরা জানায়, তারা পড়ার টেবিলে ফিরতে চায়। সরকারের কাছ থেকে দৃশ্যমান পদক্ষেপ সমাধানের পথ তৈরি করতে পারে। আন্দোলনের পাশাপাশি আলোচনার পথও খোলা থাকবে। সুধীজনরা মনে করছেন, এখনও কোটা সংস্কার নিয়ে যে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা থেকে উত্তরণ সম্ভব। সরকার ও কোটা সংস্কারের সঙ্গে জড়িত শিক্ষার্থীদের মধ্যে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি উন্নতি করা সম্ভব বলে অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন। বিশেষ করে ক্যাম্পাসগুলো বন্ধ করে দেওয়ার ফলে একটি ইতিবাচক দিক তৈরি হয়েছে। ছাত্রলীগকে সংঘর্ষে দেখা যাচ্ছে না। ফলে সরকারের সঙ্গে কোটা সংস্কার আন্দোলনের শিক্ষার্থীদের আলোচনার পথ উন্মুক্ত হয়েছে। কোটা সংস্কার আন্দোলনে যারা শিক্ষার্থী আছেন তারাও আলোচনা নাকচ করে দেবে— এমনটা ভাবার কোনো কারণ নেই। বরং এই মুহূর্তে যদি সরকারও আলোচনার প্রস্তাব দেয় এবং সেটি যদি তারা নাকচ করে দেয় তাহলে জনমত তাদের বিপক্ষে চলে যাবে বলে মনে করছেন তারা।

নওগাঁয় জলাশয়ে ডুবে প্রাণ গেল আবু বক্করের

নওগাঁয় জলাশয়ে ডুবে প্রাণ গেল আবু বক্করের

নওগাঁর আত্রাইয়ে আবু বক্কর (৬) নামে এক শিশুর পানিতে ডুবে মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (১৭ জুলাই) দুপুরের দিকে উপজেলার আহসানগঞ্জ ইউনিয়নের সিংসাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। মৃত শিশু আবু বক্কর উপজেলার আহসানগঞ্জ ইউপির সিংসাড়া গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে। স্থানীয়রা সূত্রে জানা যায়, বাড়ির উঠানে খেলা করছিল আবু বক্কর। এর কিছু পরে তাকে পরিবারের লোকজন দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। খোঁজাখুজির একপর্যায়ে বাড়ির পাশের জলাশয়ের পানিতে আবু বক্করের মরদেহ ভাসতে দেখতে পান। দ্রুত উদ্ধার করে তাকে আত্রাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। আত্রাই থানার ওসি জহুরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ গেছে এবং এই বন্যা মৌসুমে অভিভাবককে তাদের সন্তানদের প্রতি দৃষ্টি রাখতে অনুরোধ।

মেট্রোরেল কমপ্লিট শাটডাউনেও চলবে

মেট্রোরেল কমপ্লিট শাটডাউনেও চলবে

চলমান কোটা সংস্কার আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের নির্বিচার হামলার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার সারা দেশে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। এ কর্মসূচির মধ্যেও যথারীতি মেট্রোরেল চলবে বলে জানিয়েছে মেট্রোরেল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। বুধবার (১৭ জুলাই) রাতে ডিএমটিসিএলের কোম্পানি সচিব মোহাম্মদ আবদুর রউফ বলেন, মেট্রোরেল নিয়মিত সময়সূচি অনুযায়ী চলবে। মেট্রোরেল ও যাত্রীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছি যেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিরাপত্তা দেয়। এদিকে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে রাজধানীতে গত কয়েকদিন ধরে গণপরিবহনের সংখ্যা কমে গেছে। ফলে নগরবাসীসহ অফিসগামী চাকরিজীবীরা ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়ছেন। এ পরিস্থিতিতে তাদের একমাত্র ভরসার যানবাহন হয়ে উঠেছে এই মেট্রোরেল। মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সাধারণত প্রতিদিন মেট্রোরেলে প্রায় তিন লাখ যাত্রী চলাচল করেন। কিন্তু গত কয়েক দিনে প্রতিদিন সাড়ে তিন লাখ থেকে তিন লাখ ৬০ হাজার যাত্রী মেট্রোতে চলাচল করেছেন। এর মধ্যে মতিঝিল, সচিবালয়, কারওয়ান বাজার ও উত্তরা উত্তর স্টেশনে সবচেয়ে বেশি যাত্রী ছিল।

যাত্রাবাড়ীতে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ

যাত্রাবাড়ীতে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ

রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে কোটা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ চলছে। বুধবার রাত ৮টা ৫০ মিনিটের দিকে এ সংঘর্ষ শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে যাচ্ছে অতিরিক্ত পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সংঘর্ষের ঘটনায় যাত্রাবাড়ী থানা থেকে কুতুবখালি পর্যন্ত মহাসড়ক বন্ধ রয়েছে। যাত্রাবাড়ী থানার সামনে প্রস্তুত রয়েছে বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য। অন্যদিকে হানিফ ফ্লাইওভারের কুতুবখালী টোলপ্লাজায় মোটরসাইকেল ও সিএনজি পুড়িয়ে দিয়েছে আন্দোলনকরীরা। এর আগে যাত্রাবাড়ী থানায় হামলার ঘটনা ঘটে। এর আগে, একই স্থানে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় শর্টগানের গুলিতে ২ বছরের শিশুসহ অন্তত ৬ জন আহত হয়। আহতরা হলেন- সবজি বিক্রেতা মো. বাবলু (৪০) ও তার শিশু সন্তান রোহিত (২), মনিরুল ইসলাম (২০), মো. ফয়সাল (২৭), নবম শ্রেণির ছাত্র মাহিন আহমেদ পিয়াস (১৫), মো. সোহাগ (২৮)।

বিদায়ী অর্থবছর যে কারণে মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধি জন্য দায়ী

বিদায়ী অর্থবছর যে কারণে মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধি জন্য দায়ী

গত অর্থবছরজুড়ে নানা উদ্যোগ নিলেও নিয়ন্ত্রণে আসেনি দেশের মুদ্রাস্ফীতি। উল্টো নিত্যপ্রয়োজনীয় সব পণ্যের দাম বেড়ে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়িয়েছে বহু গুণ। সম্প্রতি বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে টাকার উল্লেখযোগ্য অবমূল্যায়নের কারণে দেশীয় অর্থনীতি লাভবান হতে পারেনি, যা পরবর্তীতে আমদানি মূল্য ও মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধির জন্য দায়ী। গত অর্থবছরের তাদের সর্বশেষ মুদ্রানীতি পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে যে কাঁচামাল আমদানি শুল্ক, গ্যাস, জ্বালানি তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী এবং বাজারে প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশের অভাবের কারণে উচ্চ মূল্যস্ফীতি হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা মনে করছেন, আগামী মুদ্রানীতিতে অনুৎপাদনশীল খাতে বা বিলাসী খাতে আমদানি আরো নিয়ন্ত্রণ করা হবে। এছাড়া এসব খাতে ঋণের সুদহারও কিছুটা বাড়ানো হবে। এতে টাকার প্রবাহ কমে মূল্যস্ফীতি কমবে। বাংলাদেশ ব্যাংক চলতি মাসে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথমার্ধ অর্থাৎ জুলাই-ডিসেম্বর মেয়াদের জন্য নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করবেন। অর্থবছরের প্রথমার্ধের জন্য ঘোষিত সংকুলানমুখী মুদ্রানীতির ধারাবাহিকতা দ্বিতীয়ার্ধেও থাকবে। অথ্যাৎ মুদ্রাস্ফীতি ঠেকাতে আসন্ন মুদ্রানীতিতে ব্যাংকটি আবারো কঠোর অবস্থান অব্যাহত রাখার ইঙ্গিত দিয়েছে। এর আগে গত ১৭ জানুয়ারি ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরের দ্বিতীয় ষান্মাসিকের (জানুয়ারি-জুন) মুদ্রানীতি ঘোষণাকালে নীতি সুদহার ২৫ শতাংশীয় পয়েন্ট বাড়িয়ে ৮ শতাংশ করা হয়েছিল। নতুন সিদ্ধান্ত মতে নীতি সুদহার ৭.৭৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৮ শতাংশ করা হয়। এর ফলে টাকার সরবরাহ কমানোর কথা ছিল। কিছুটা নগদ টাকা কমলেও মূল্যস্ফীতি না কমে উল্টো বেড়েছে। এ কারণে মুদ্রাস্ফীতি মাঝারি মেয়াদে টেকসইভাবে ৭. ৫ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছি আনতে মুদ্রানীতিকে দীর্ঘ সময়ের জন্য কঠোর অবস্থানে থাকতে হবে। অর্থনীতিবিদদের মতে, বর্তমানে বিশ্বে চলামান সংঘাত বিশেষ করে রাশিয়া-ইউক্রেন দ্বন্দ্ব এবং মধ্যপ্রাচ্যে অশান্তি বাংলাদেশের অর্থনীতিকে প্রভাবিত করছে। যুদ্ধ যদি দীর্ঘায়িত হয়, তাহলে দেশের অর্থনীতিতেও এর প্রভাব থেকে যাবে। বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা এবং বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করার জন্য ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো সম্মিলিতভাবে একটি রোড ম্যাপ প্রস্তুত করছে। আশা করা হচ্ছে এই পদক্ষেপ দেশরে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, টেকসই প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি এবং আর্থিক স্বাস্থ্যের উন্নতিতে অবদান রাখবে। সূত্র: ফাইবারটুফ্যাশন

সোনায় এত উত্থান-পতন যে কারণে

সোনায় এত উত্থান-পতন যে কারণে

চলতি বছরের শুরু থেকেই দেশের সোনার বাজারে চলছে উত্থান-পতন। ১৫ জুলাই পর্যন্ত মোট ৩২ বার সোনার দাম সমন্বয় করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এর মধ্যে ১৭ বারই বাড়ানো হয়েছে দাম, কমানো হয়েছে ১৫ বার। সবশেষ দাম সমন্বয়েও সোনার দাম বাড়িয়ে দেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিশ্ববাজারে দাম ঊর্ধ্বমুখী থাকলে সামনে দেশের বাজারে আরো বাড়বে দাম। প্রাচীন কাল থেকেই সোনাকে বলা হয়, অর্থের সবচেয়ে স্থায়ী রূপ। হাজার বছর ধরে মূল্যবান এই ধাতুর চোখ ধাঁধানো ঔজ্জ্বল্য, দীপ্তি আর চাকচিক্য মানুষকে অভিভূত করে চলেছে। হয়ত সে কারণেই এর মূল্য কখনো শূন্যে নামেনি। বরং দিন যত যাচ্ছে, ততই বাড়ছে এর মূল্য। চলতি বছরের শুরু থেকে১৫ জুলাই পর্যন্ত ৩২ বার সোনার দাম সমন্বয় করেছে (বাজুস)। এর মধ্যে ১৭ বারই বাড়ানো হয়েছে দাম, কমানো হয়েছে ১৫ বার। বাজুসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালজুড়ে মোট ২৯ বার সোনার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। এ বছর এরই মধ্যে সেই সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ৩২ বার সোনার দাম সমন্বয় করা হয়েছে। যেখানে ১৭ বার দাম বাড়ানো হয়েছে, আর কমানো হয়েছে ১৫ বার। দেশের বাজারে সোনার দামের এমন ঘন ঘন পরিবর্তন মূলত বিশ্ববাজারের দামের কারণেই ঘটছে। রোববার স্পট মার্কেটে সোনার দাম অবস্থান করছিল ২ হাজার ৪১১ দশমিক ৪৪ ডলারে। আর গত এপ্রিল মাসে বিশ্ববাজারে রেকর্ড ছুঁয়েছিল সোনার দাম। ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় গত ১২ এপ্রিল লেনদেনের এক পর্যায়ে বিশ্ববাজারে প্রতি আউন্স সোনার দাম উঠে যায় ২৪৩১ দশমিক ৫১ ডলারে। বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিংয়ের চেয়ারম্যান ও বাজুস সহ-সভাপতি মাসুদুর রহমান বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দামের ওঠা-নামা এবং স্থানীয় বাজারে তার প্রতিফলন-এটিই সোনার দামের এমন উত্থান-পতনের মূল কারণ। সামনে বিশ্ববাজারে দাম বাড়লে দেশের বাজারেও দাম বাড়বে। আর কমলে দেশের বাজারেও কমবে। ২০২৩ সালজুড়ে মোট ২৯ বার সোনার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, অস্থিতিশীল বিশ্ববাজারের জন্যই দেশের বাজারে এই ধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। অর্থনীতিবিদ মাহফুজ কবির বলেন, দেশে সোনার দামের ঘন ঘন পরিবর্তনের মূল কারণ বিশ্ববাজারে দামের অস্থিতিশীল অবস্থা। বিশ্ববাজারে সোনার দাম অনুযায়ী স্থানীয় বাজারে সমন্বয় করার প্রয়োজন হয়। তা না হলে, সোনা পাচার হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়। কিন্তু ঘন ঘন সোনার দাম ওঠা-নামা করাও আশঙ্কার বিষয়। এতে এ বাজারে বিনিয়োগকারী কমবে। তিনি আরো বলেন, চলতি বছর সোনার বাজার ঊর্ধ্বমুখীই বেশি। আস্তে আস্তে এ বাজার সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে। এইটা খুব চিন্তার বিষয় এ খাতের ভবিষ্যতের জন্য। পাশাপাশি দেশের স্বর্ণ খাত আস্তে আস্তে যখন আলো দেখতে পাচ্ছিল এবং বিশ্ববাজারে দেশের সোনার গহনার রফতানি শুরু হয়, তখন বিশ্ববাজারের এই পরিস্থিতির জন্য দেশের এ খাত হুমকির মুখে পড়ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দামের ওঠা-নামা এবং স্থানীয় বাজারে তার প্রতিফলন-এটিই সোনার দামের এমন উত্থান-পতনের মূল কারণ। এদিকে, ঘন ঘন সোনার দাম সমন্বয়ের কারণে অস্বস্তিতেও রয়েছেন ব্যবসায়ীরাও। সোনার দামের এই ঘন ঘন পরিবর্তনে বেচাকেনায় ভাটা পড়েছে তাদের। রাজধানীর তাঁতিবাজারে সোনা ব্যবসায়ী বিপ্লব জানান, ঘন ঘন দাম পরিবর্তন আর রেকর্ড দামে কমে গেছে বেচাবিক্রি। কারণ শুধু সোনা কিনলেই হয় না। গহনা গড়তে মজুরি রয়েছে। এখানে বেড়ে যায় দাম। ফলে পরিমাণে কম কিনছে মানুষ। এমন পরিস্থিতি এড়াতে মাসভিত্তিক সোনার দাম নির্ধারণ করার বিষয়ে বাজুসের সহ-সভাপতি মাসুদুর রহমান জানিয়েছিলেন, বিশ্ববাজারে দাম স্থিতিশীল না হলে কখনোই দেশের বাজারে সোনার দাম মাসব্যাপী এক রাখা সম্ভব না। আর বিশ্ববাজারে প্রতি ঘণ্টায় ঘণ্টায় ওঠানামা করে সোনার দাম। এ কারণে দেশের বাজারে কখনোই সোনার দাম মাসব্যাপী এক রাখা সম্ভব না। ঘন ঘন সোনার দাম সমন্বয়ের কারণে বেচাকেনায় ভাটা পড়েছে ব্যবসায়ীদের। সবশেষ ১৫ জুলাই সোনার দাম ভরিতে ১ হাজার ১৯০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনা বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ২০ হাজার ৮১ টাকায়। যা দেশের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ দাম। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ১৪ হাজার ৬২২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৯৮ হাজার ২৪৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনা বিক্রি হচ্ছে ৮১ হাজার ২২৯ টাকায়। সোনার বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে আবশ্যিক সরকার-নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট ও বাজুস-নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি ৬ শতাংশ যুক্ত হচ্ছে। তবে গহনার ডিজাইন ও মানভেদে মজুরির তারতম্য হতে পারে।

নতুন মুদ্রানীতি, আরো বাড়ছে ঋণের সুদহার

নতুন মুদ্রানীতি, আরো বাড়ছে ঋণের সুদহার

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নানা উদ্যোগ নিয়েছিল সরকার। বাড়ানো হয়েছিল ঋণের সুদহার। ব্যাংক ঋণের সুদহার সর্বোচ্চ ৯ থেকে বেড়ে প্রায় ১৫ শতাংশের কাছাকাছি উঠে। এরপরও তেমন সুফল পাওয়া যায়নি। কমেনি মূল্যস্ফীতি, উল্টো নিত্যপ্রয়োজনীয় সব পণ্যের দাম বাড়ে। এ অবস্থায় ঋণের সুদহার আরো বাড়াতে পারে বাংলাদেশ ব্যাংক। চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের মুদ্রানীতিতে এই সুদহার বৃদ্ধির ঘোষণা আসতে পারে। এতে বাড়তে পারে নীতি সুদহারও (রেপো রেট)। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো যে সুদহারে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে অর্থ ধার করে সেটিই নীতি সুদহার। এ সুদহার বাড়লে ব্যাংক ঋণের সুদও বাড়ে। বর্তমানে নীতি সুদহার ৮ দশমিক ৫০ শতাংশ। সেক্ষেত্রে নীতি সুদহার বাড়তে পারে ৫০ বেসিস পয়েন্ট। তবে এটি কার্যকর হতে পারে দুই ধাপে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুদ্রানীতি কমিটির সভা রোববার অনুষ্ঠিত হয়। গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদারের সভাপতিত্বে সভায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরের মুদ্রানীতির খসড়া পাস হয়েছে। সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্ষদ সভায় নতুন মুদ্রানীতি পাস হবে। পরে ১৮ জুলাই তা ঘোষণা করা হবে। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, গত দুই অর্থবছরের মতো চলতি অর্থবছরের মুদ্রানীতিও হবে ‘সতর্ক’ ও ‘সংকুলানমুখী’। মূল্যস্ফীতির লাগাম টানতে বাজারে নিয়ন্ত্রণ করা হবে অর্থের প্রবাহ। গত দুই অর্থবছরজুড়েই দেশে ৯ শতাংশের বেশি মূল্যস্ফীতি বিরাজ করছে। সবশেষ ২০২৩-২৪ অর্থবছরে গড় মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৯ দশমিক ৭৩ শতাংশ। যদিও সে হার ৬ শতাংশে নামিয়ে আনার কথা বলেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। এর জন্য ব্যাংক ঋণের সর্বোচ্চ সুদহার ৯ শতাংশের সীমাও তুলে নেয়া হয়। একই সঙ্গে দফায় দফায় বাড়ানো হয় নীতি সুদহার। এ পরিপ্রেক্ষিতে গত অর্থবছরের মধ্যেই ঋণের সুদহার ৯ থেকে বেড়ে প্রায় ১৫ শতাংশে ঠেকে। যদিও সুদহার বৃদ্ধির প্রভাব এখনো মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে দৃশ্যমান হয়নি। সর্বশেষ জুনে দেশের মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৯ দশমিক ৭২ শতাংশ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্যানুযায়ী, টানা ১৬ মাস ধরে মূল্যস্ফীতির হার ৯ শতাংশের বেশি রয়েছে। অর্থনীতিবিদরা যদিও বলছেন, বিবিএসের তথ্যের চেয়ে দেশের প্রকৃত মূল্যস্ফীতি আরো অনেক বেশি। প্রকৃত তথ্যের ভিত্তিতে হিসাবায়ন না করায় মূলত এর সঠিক পরিসংখ্যান পাওয়া যাচ্ছে না। এদিকে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটের কারণে প্রতিবেশী প্রায় সব দেশেই মূল্যস্ফীতি বাড়লেও সাম্প্রতিক সময়ে তা কমে এসেছে। এক বছর ধরে ভারতের মূল্যস্ফীতির হার ৬ শতাংশের নিচে রয়েছে। সর্বশেষ জুনেও প্রতিবেশী দেশটির মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৫ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বড় ধরনের সাফল্য পেয়েছে পাকিস্তান ও শ্রীলংকা। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে পাকিস্তানের মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৩১ শতাংশের বেশি। চলতি বছরের জুনে এসে সে হার ১২ দশমিক ৬ শতাংশে নেমে এসেছে। ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে শ্রীলংকার মূল্যস্ফীতি প্রায় ৫২ শতাংশে উঠলেও বর্তমানে তা ১ শতাংশেরও কম। চলতি বছরের মে মাসে শ্রীলংকার মূল্যস্ফীতি ছিল দশমিক ৯ শতাংশ। মূল্যস্ফীতি কমাতে ঋণের সুদহার বৃদ্ধির প্রভাব দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের ওপর পড়েছে। উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বাজারে পণ্যের দাম আরো বাড়ছে। আবার ব্যবসায়িক মন্দা ও সুদহার বেড়ে যাওয়ার প্রভাবে অনেক ব্যবসায়ী ব্যাংক ঋণ পরিশোধ করতে পারছেন না। এতে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ও হার দুটিই বাড়ছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, সুদহার বৃদ্ধির প্রভাবে অনেক ব্যবসায়ী দেউলিয়া হওয়ার মুখে। এ অবস্থায় ঋণের সুদহার বাড়লে পরিস্থিতি আরো খারাপ হবে। ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন দ্য ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) সভাপতি মো. মাহবুবুল আলম বলেন, সুদহার এমনিতেই অনেক বেড়ে গেছে। আশা করছি, ঋণের সুদ আর বাড়বে না। গভর্নরের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আমাদের আশ্বস্ত করা হয়েছিল। ব্যাংকগুলো এখন সাড়ে ১৩ থেকে ১৪ শতাংশ সুদে ঋণ দিচ্ছে বলে আমাদের কাছে তথ্য আছে। কোনো ব্যাংক এর চেয়ে বেশি সুদ নিলে আমরা বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকারের কাছে অভিযোগ করব। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দুই বছর ধরে দেশের ব্যাংক খাতে তারল্যের সংকট চলছে। ব্যাংকগুলো উচ্চ হারে সুদ দিয়েও আমানত সংগ্রহ করতে পারছে না। সংকট তীব্র হওয়ায় দেশের অন্তত এক ডজন ব্যাংক তারল্যের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকনির্ভর হয়ে পড়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক টাকা ছাপিয়েও কিছু ব্যাংককে নগদ অর্থের জোগান দিচ্ছে। আবার সরকারও ঘাটতি বাজেট পূরণে পুরোপুরি ব্যাংক ঋণনির্ভর হয়ে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি বেসরকারি খাতে পর্যাপ্ত ঋণের জোগান নিশ্চিত করাও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দিয়েছে। সরকার ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জন্য ২ লাখ ৫৬ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি বাজেট ঘোষণা করেছে। এ ঘাটতি পূরণে ১ লাখ ৬০ হাজার ৯০০ কোটি টাকার ঋণ নেয়া হবে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে। এক্ষেত্রে দেশের ব্যাংক খাত থেকে নেয়া হবে ১ লাখ ৩৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকার ঋণ। যদিও অর্থবছর শেষে ব্যাংক খাত থেকে নেয়া ঋণের পরিমাণ আরো বাড়তে পারে। এ খাত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পরিস্থিতিতে সরকারকে ঋণের জোগান দিতে গিয়ে বেসরকারি খাতের আরো বেশি ঋণবঞ্চিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে সরকারি ট্রেজারি বিলের সুদহার উঠেছে ১১ দশমিক ৮০ শতাংশে। ব্যাংকগুলো এখন সরকারকে ঋণ দেওয়াকেই বেশি লাভজনক ও নিরাপদ মনে করছে। চলতি অর্থবছরে ট্রেজারি বিল ও বন্ডের সুদহার আরো বাড়বে।

জাহ্নবী কাপুরের ‘উলঝ’ সিনেমার ট্রেলার প্রকাশ্যে

জাহ্নবী কাপুরের ‘উলঝ’ সিনেমার ট্রেলার প্রকাশ্যে

অনন্ত-রাধিকার বিয়ের অনুষ্ঠানে খোশমেজাজে ছিলেন জাহ্নবী কাপুর। বিয়েতে কখনো ময়ূর পালকের রঙের পোশাকে, আবার কখনো বডিং হাগিং ড্রেসে সবার দৃষ্টি কেড়েছেন নতুন প্রজন্মের এ অভিনেত্রী। শুধু তা-ই নয়, প্রেমিক শিখর পাহাড়িয়ার সঙ্গে তালমিলিয়ে নৃত্য করেছেন। এমন আনন্দময় সময়ের রেশ কাটতে না কাটতেই অন্যরকম খবর জানা গেছে। শোনা যাচ্ছে, নিখোঁজ হয়েছেন জাহ্নবী! এমনটা শুনে তার ভক্ত-অনুরাগীরা হয়তো ভয় পেতে পারেন। তবে শঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। কারণ এ বিপদ বাস্তবে নয়। এমনটা ঘটেছে সিনেমায়। সুধাংশু সারিয়া নির্মিত স্পাই থ্রিলার ‘উলঝ’ সিনেমায় দেখা যাবে জাহ্নবীকে। আর সেই সিনেমাতেই এমন সব ঘটনা ঘেটেছে। সিনেমায় ভারতীয় বৈদেশিক মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মী সুহানা ভাটিয়ার চরিত্রে অভিনয় করেছেন জাহ্নবী। এরই মধ্যে সিনেমার ট্রেলার প্রকাশ্যে এসেছে। আর তাতেই ঘণীভূত হয়েছে রহস্য। প্রায় আড়াই মিনিটের এ ট্রেলার দেখে যা বোঝা যাচ্ছে সেই অনুযায়ী, লন্ডনের ভারতীয় দূতাবাসে এক চর আছে বলে সন্দেহ গোয়েন্দাদের। এর মধ্যেই সুহানাকে দেশের সর্বকনিষ্ঠ ডেপুটি হাই কমিশনার হিসেবে ঘোষণা করা হয়। কিন্তু হাই প্রোফাইল এ কাজ করতে গিয়েই কি সুহানা ফেঁসে যান? কেন সে ২৪ ঘণ্টা ধরে নিখোঁজ? এ সব প্রশ্নের উত্তর প্রেক্ষাগৃহে পাওয়া যাবে আগামী ২ আগস্ট। সেদিনই সিনেমা হলে মুক্তি পাচ্ছে ‘উলঝ’ সিনেমাটি।

ডি মারিয়া-মুলারের পর একই ঘোষণা জিরুদেরও

ডি মারিয়া-মুলারের পর একই ঘোষণা জিরুদেরও

সদ্য সমাপ্ত কোপা আমেরিকার শিরোপা জিতেই আন্তর্জাতিক ফুটবলকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানিয়েছেন অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়া। একই দিন আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দেন আরেক বিশ্বজয়ী তারকা জার্মানির থমাস মুলার। ডি মারিয়া ও মুলারের পর এবার ফ্রান্সের বিশ্বকাপজয়ী তারকা স্ট্রাইকার অলিভিয়ের জিরুদও আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন। জার্মানিতে সদ্য সমাপ্ত ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ দিয়েই আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানানোর ঘোষণা দিয়ে রেখেছিলেন জিরুদদ। তবে স্পেনের বিপক্ষে সেমিফাইনালে হারের হতাশায় হয়তো ফরাসিদের শেষ ম্যাচের দিন তিনি সেই ঘোষণা দেননি। সোমবার (১৫ জুলাই) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন জিরুদ। নিজের ইনস্টাগ্রাম একাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এই ফরাসি ফরোয়ার্ড জানিয়েছেন, ‘একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটছে। আমি এখন ভিন্ন কোনো অভিযানে নামতে যাচ্ছি। এখন থেকে আমি হতে চলেছি ব্লুসদের (ফ্রান্স) প্রথম কোনো সমর্থক। ফ্রান্স জাতীয় দলের হয়ে আমি ১৩ বছর খেলেছি, যা সবসময় আমার হৃদয়ে সংরক্ষিত থাকবে। এটি আমার জন্য সবচেয়ে গর্বের এবং পছন্দের স্মৃতি। দীর্ঘদিন ধরে ভাবা সেই সময় এসে গেছে, যা নিয়ে শঙ্কিত ছিলাম। ফ্রান্স জাতীয় দলকে বিদায় বলছি।’ আন্তর্জাতিক ফুটবলে ফ্রান্সের সর্বোচ্চ গোলদাতা জিরুদ। ২০২২ বিশ্বকাপেই সর্বোচ্চ এই গোলের রেকর্ড গড়েন ৩৭ বছর বয়সী এই তারকা। এজন্য বিশ্বকাপজয়ী কিংবদিন্ত ফরাসি কোচ দিদিয়ের দেশমকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে জিরুদ লিখেছেন, ‘আমরা অবিচ্ছেদ্য একটি ব্যান্ড ছিলাম, যাদের নিয়ন্ত্রণে ছিলেন দারুণ এক ব্যক্তি, কোচ দিদিয়ের দেশম। আমার প্রতি আস্থা রাখার জন্য তাকেও ধন্যবাদ। আমাদের উত্থান-পতনের সময়েও তিনি আমাকে সমর্থন জুগিয়েছেন, যে কারণে আমি লেস ব্লুসদের হয়ে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলস্কোরার হতে পেরেছি।’ ২০১৮ সালে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ফ্রান্স। যদিও সেখানে কিলিয়ান এমবাপ্পেই পুরো আলো কেড়ে নিয়েছেন, তবে তার পাশে ভরসা হয়েছিলেন অভিজ্ঞ জিরুদ এবং আন্তোনিও গ্রিজম্যানরা। কাতারে অনুষ্ঠিত আসরটিতেই ফরাসিদের হয়ে সর্বোচ্চ ৫১ গোলের রেকর্ড গড়েন জিরুদ। অবসরের আগে সবমিলিয়ে ১৩৭ আন্তর্জাতিক ম্যাচে তিনি ৫৭টি গোল করেছেন।

#

ফেব্রুয়ারিতে চালু ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী সেতু, যেসব সুবিধা হবে

#

এবারের নির্বাচন পাতানো ছিল না : কাদের!

#

আগামী সপ্তাহে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের তফসিল!

#

দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ!

#

বীর মুক্তিযোদ্ধা’ লেখা স্মার্টকার্ড দিচ্ছে ইসি!